উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার মো. মামুন হোসেনকে (২৬) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের ডিটেনশন কক্ষ থেকে মামুনকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে পাসপোর্ট ও মুঠোফোনসহ ব্যক্তিগত মালামাল জব্দ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মতিউর রহমান মোল্লা সোমবার মামুনকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামুনের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তার যোগাযোগ, সম্ভাব্য সহযোগী, অর্থের উৎস, বিদেশ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং নাশকতার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানায়।
শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী শরীফ ওয়াহিদ বখতিয়ার ও মফিজুল ইসলাম তাদের মক্কেলকে নির্দোষ দাবি করে মামলাটিকে হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মামুন বলেন, "তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও তিনি জামিনে রয়েছেন এবং বিদেশ যেতে আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা দেননি। তিনি শ্রমিক ভিসায় কাতার যাচ্ছিলেন, কিন্তু অকারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে।"
মামুনের এই দাবির প্রেক্ষিতে বিচারক প্রশ্ন করেন, "আপনি আইনের অপব্যবহার করেছেন। বিদেশ যেতে আদালতের কোনো অনুমতি নিয়েছেন?"
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আদালতকে জানান, ২০২০ সালে মামুন পর্তুগাল হয়ে ফ্রান্সে গেলে উগ্রবাদী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে আরেকটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি জবানবন্দিও দিয়েছেন। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী এলাকায় মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘ফাতাহ কমব্যাট’–এর সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের এই তথ্যের পর বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, "রাষ্ট্রপক্ষ যে তথ্য তুলে ধরেছে, তা রিমান্ড আবেদনে কেন উল্লেখ করা হয়নি?" একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।
আদালতে অভিযুক্ত মামুন আরও দাবি করেন, "২০১৯ সালে বিদেশ যাওয়ার সময় তাঁকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে ২০ দিন গুম করে রাখা হয়েছিল। পরে গেন্ডারিয়া থানার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জোর করে জবানবন্দি নেওয়া হয়।"
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও গেন্ডারিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।