আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই এমন এক বাস্তবতায় ছিলেন, যেখানে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের ফল ছিল একেবারেই ভিন্ন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি নিঃসন্দেহে ব্যস্ততম ব্যক্তিদের একজন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভুল এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপ জয়ের আশায় আগে থেকেই ঠিক করে রাখা (শিডিউল) একটি পোস্টই এই বিব্রতকর পরিস্থিতির কারণ। তবে ম্যাচে হারের পর সেটি বাতিল করতে ভুলে যাওয়াতেই পোস্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপলোড হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া ওই পোস্টে মাইলেই ঘোষণা করেন, বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ উদ্‌যাপনে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যে দিন উদ্‌যাপন করতে চাইবেন, সে দিনই ছুটি থাকবে।

অথচ বাস্তবে তখন স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের বেদনায় আর্জেন্টিনাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছিল।

পোস্টে মাইলেই লিখেছিলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপন উপলক্ষে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যে দিন নির্ধারণ করবেন, সে দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে।’

তবে এর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘অনেক ধন্যবাদ, খেলোয়াড়রা...! শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা লড়েছি। আর্জেন্টিনা সব সময় শীর্ষেই থাকবে।’

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই তার অ্যাকাউন্ট থেকে বিশ্বকাপ জয়ের ‘শিডিউল’ পোস্টটি প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির একটি সোনালি অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল।

ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে জয়সূচক গোল করেন। তাতেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।

এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখন তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরও মর্যাদা পেল।

এদিকে, বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের ক্যারিয়ারেও যুক্ত হলো আরেকটি বড় সাফল্য। স্পেন ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতার সময় তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। ২০২৪ সালের ইউরো ও এবারের বিশ্বকাপ দুটোই এখন স্পেনের দখলে।