জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেতে অন্যের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে মৌখিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে চেহারার অমিল ধরা পড়লে এই ঘটনা সামনে আসে।

আটককৃত চার প্রার্থীর পরিচয়— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. আলিম, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ জুন মো. আ. আলিমের, ২৫ জুন মো. আলী হায়দার ও রাসেল রানা লিটনের এবং ২৮ জুন মো. মাসুদ ফকিরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চারজনেরই পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ছিল বেলা দুইটা।

মৌখিক পরীক্ষার সময় সকল প্রার্থীর প্রবেশপত্রসহ ছবি তুলে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৬ জুলাই অফিস সহায়ক পদে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে নিয়োগপত্র প্রদান করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নিয়োগপত্রে নির্বাচিত প্রার্থীদের ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (প্রশাসন অধিশাখা) কাছে যোগদানপত্র জমা দেওয়ার কথা বলা হয়।

আজ নির্ধারিত সময়ে ওই চারজন উপস্থিত হলে মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ছবির সঙ্গে তাঁদের চেহারার অমিল ধরা পড়ে। এজাহারে বলা হয়, "তাঁদের চেহারার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত ওই রেজিস্ট্রেশনধারী ব্যক্তিদের চেহারা ভিন্ন হওয়ায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, অন্য ব্যক্তিরা তাঁদের হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন; তাঁরা নিজেরা ওই পরীক্ষা দেননি।" পরবর্তীতে তাঁরা দোষ স্বীকার করে লিখিত বক্তব্যও প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়কের শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কম্পিউটার অপারেটর পদে ২ হাজার ৭৮৪ জন এবং অফিস সহায়ক পদে ২৩ হাজার ৭০৯ জন আবেদন করেন। ১৯ জুন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্রে অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৯ হাজার ৩১৮ জন অংশ নেন। সেখান থেকে ১০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।