বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দ্রুত শুরুর দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন পরীক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল নগরের ষোলোশহরে অবস্থিত বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বর্তমান রুটিন অনুযায়ী দ্রুত পরীক্ষা শুরু করার পাশাপাশি স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর জন্য অন্তত দুই থেকে তিন দিনের বিরতি দিয়ে নতুন সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, অন্য শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা চলমান থাকায় তারা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। এছাড়া বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাকি পরীক্ষাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, "বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ বিবেচনা করেই মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।"

বর্তমানে ১৪টি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব নতুন রুটিন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।"

চেয়ারম্যান জানান, শিক্ষার্থীদের দেওয়া এই স্মারকলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং তিনি শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথমে চলমান রুটিনের পরীক্ষাগুলো নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে স্থগিত বিষয়গুলোর জন্য আলাদা সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। প্রয়োজনে নতুন সেটের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

অন্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, "চট্টগ্রাম বোর্ডের প্রায় এক লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য দেশের বাকি প্রায় ১০ লাখ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।"

তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, "সরকার ‘অটো পাস’ বিবেচনা করছে না। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই।"

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চলমান এইচএসসি পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে বোর্ড অধীনস্থ জেলাগুলোতে সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করে পরীক্ষা শুরু করা হবে।