দিনাজপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে মারধর এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে শহরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে রাত পৌনে একটার দিকে ওই নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তির নাম গোলাম মুর্শিদ (৩০), যিনি বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দিনাজপুর জজ কোর্টের এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় মুর্শিদ তাঁর চাচার ব্যক্তিগত গাড়ি মেরামতের জন্য শহরের মির্জাপুর টার্মিনাল এলাকার একটি গ্যারেজে গিয়েছিলেন। রাত নয়টার দিকে দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী তাঁকে ফোন করে কলেজ মোড়ে ডাকেন। এরপর গোলাম মুর্শিদকে ধরে কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মী আব্দুল্লাহ আল আমান ও আসিফ শাহরিয়ার চৌধুরী কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তাঁর মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, এ সময় কলেজ শাখা ও জেলা ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে রাত পৌনে একটার দিকে কলেজের উত্তর গেটেও তাঁকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মী (সভাপতি প্রার্থী) আব্দুল্লাহ আল আমান। তিনি বলেন, ‘মুর্শিদ তাঁর এলাকা বীরগঞ্জ থেকে পালিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শহরেই থাকেন। মাসখানেক আগে থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের নিয়ে মিটিং করে আসছেন। শনিবার রাতে তাঁরা প্রাইভেট কারে চারজন ছিলেন। বীরগঞ্জ এলাকায় বাড়ি ও সরকারি কলেজে পড়ে এমন কয়েকজন তাঁদের আটক করলে তিনজন পালিয়ে যান। পরে মুর্শিদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে চাঁদা চাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া হাবিব মুঠোফোনে জানান, ‘ওরা কয়েকজন বীরগঞ্জ থেকে আসে, শহরে মিছিল করে চলে যায়। দুই দিন আগে পাঁচবাড়ি এলাকায় মিছিল করেছে। ওই মিছিলে সেও (গোলাম মুর্শিদ) ছিল, ছবি–ভিডিও আছে। সে কারণে কলেজ শাখা ছাত্রদলের ছেলেরাই ওকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।’ চাঁদার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অভিযোগটা ঠিক নয়।’
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানান, ছাত্রলীগের এক নেতার আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাতে হাসপাতালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে আটক ওই নেতার নামে কোনো মামলা আছে কি না খতিয়ে দেখা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।