পুরান ঢাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া পিছিয়ে ২৭ জুলাই নতুন তারিখ ধার্য করেছে আদালত। আজ রোববার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজের আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আজ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। নয়জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু দুজন সাক্ষী আসেননি। আদালত ২৭ জুলাই নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।"
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল আক্রমণকারী লাল চাঁদকে পাথর দিয়ে আঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন নিহত ব্যক্তির বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভাঙারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আসামি মাহমুদ হাসান ও সরোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিরোধের কারণেই লাল চাঁদকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত লাল চাঁদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের resident ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে ছিলেন এবং তিনি মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসা করতেন।
মামলায় মোট ২১ জন আসামি রয়েছেন। তারা হলেন মাহমুদ হাসান মহিন, সারোয়ার হোসেন টিটু, মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজীব ওরফে সজীব ব্যাপারী, তারেক রহমান, টিটন গাজী, অপু দাস, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রুমান ব্যাপারী, আবির হোসেন, জহির ওরফে জলিল, ইমরান, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার ও জিয়াউদ্দিন রাজীব।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম ও মো. সাগর বর্তমানে কারাগারে আছেন। অন্যদিকে মো. রুমান ব্যাপারী, মো. আবির হোসেন ও মো. পারভেজ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত এবং সর্বশেষ জামিন পেয়েছেন সজীব ব্যাপারী। এছাড়া জহিরুল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজীব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন এবং অপু দাস পলাতক রয়েছেন।






