লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চেয়েছেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে গেলেও শিক্ষক থামেননি; শিশুটি হাত দিয়ে বেতটি সরানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। ভিডিওটি পোস্ট করার সময় শিক্ষক লিখেছিলেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’।
ঘটনাটি রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। গত ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ভিডিওটি মুছে ফেলেন এবং নিজের অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন। তবে গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান ইমরান হোসেন।
ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ জানান, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন এবং শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর আচরণে নানা অসংগতি ছিল। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে প্রায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি পূর্বে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।”
মঞ্জুর আহমেদ আরও জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগে ইমরানকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনার পর গতকাল এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে অবস্থান করছেন না। মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ প্রতিবেদকের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত ইমরান হোসেনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।