মিষ্টি স্বাদের আইসক্রিম ছোট-বড় সবারই প্রিয়। সময়ের সাথে সাথে এই জনপ্রিয় ডেজার্টটির ধরনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আইসক্রিমের নতুন নতুন ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম লিকুইড নাইট্রোজেন আইসক্রিম, যেখানে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই আইসক্রিম তৈরি করা হয়। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে আসা রোলড আইসক্রিমের প্রবণতা এখন বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়; শীতল ধাতব প্লেটে দুধ ও ফলের মিশ্রণ ঢেলে খুন্তি দিয়ে চেঁছে এই রোল তৈরি করা হয়। পাশাপাশি যারা প্রাণিজ দুধ এড়িয়ে চলেন, তাদের জন্য কাঠবাদাম, ওটস, সয়া বা নারকেলের দুধ দিয়ে তৈরি ভিগান আইসক্রিম এখন দারুণ জনপ্রিয়।
ফ্লেভারের ক্ষেত্রে আইসক্রিম এখন বৈচিত্র্যময়। বিশ্বে বিভিন্ন ফল ছাড়াও রসুন, স্কুইডের কালি, হ্যালিপিনো (কাঁচা মরিচ), সয়া সস, এমনকি হট ডগ বা গরুর মাংসের ফ্লেভারের আইসক্রিমও পাওয়া যায়। তবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ভ্যানিলা ফ্লেভারের আইসক্রিম, যার পরেই অবস্থান চকলেটের।
আইসক্রিমের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৪ সালে আমেরিকার সেন্ট লুইস ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে আইসক্রিমের বাটি শেষ হয়ে যাওয়ায় পাশের একজন বিক্রেতা ওয়াফল পেঁচিয়ে কোন তৈরি করে দেন, যা থেকে আইসক্রিম কোনের জন্ম হয়। এরপর ১৯০৫ সালে ফ্রান্সে পপসিকল আইসক্রিমের আবিষ্কার ঘটে, যা বর্তমানে বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়।
আইসক্রিম নিয়ে কিছু কৌতূহল উদ্দীপক তথ্যও রয়েছে। খুব দ্রুত ঠান্ডা আইসক্রিম খেলে মাথায় হঠাৎ যে তীব্র ব্যথা হয়, বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে "স্নেপোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিওরালজিয়া" বা ব্রেন ফ্রিজ। এছাড়া ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেইরি কোম্পানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইসক্রিমের স্কুপ তৈরি করেছিল, যার ওজন ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৬৫ কেজি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে একসময় রোববার সোডামিশ্রিত আইসক্রিম বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। সেই আইন ফাঁকি দিতেই সিরাপ দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করে তার নামকরণ করা হয় ‘সানডে’।






