টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দিনের বেলা পানির ট্যাংকে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে রাতে টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের জুরান মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার আবুল হোসেনের বাড়িতে গতকাল দুপুরের দিকে কয়েকজন লোক পানি খেতে আসেন। তাঁরা বাড়িটির টিউবওয়েলের কাছে গিয়ে পানি পান করে কিছুক্ষণ পর চলে যান। এরপর দুপুরের দিকে টিউবওয়েলের পাশে থাকা ট্যাংকের পানি পান করেন আবুল হোসেন, যার কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
আবুল হোসেনের বড় ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তাঁর বাবাকে চিকিৎসার জন্য কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে যান। সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবুল হোসেনকে রেখে সবাই বাড়ি ফেরেন। রাতে তাঁর মা রাহাতন বেগম, ভাই ইব্রাহিম মিয়া ও পাঁচ বোনসহ সবাই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে দুই ঘরের টিনের বেড়া কেটে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ঘরের আলমারি ও শোকেসের তালা ভেঙে সেখানে রাখা ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার, সাত লাখ টাকা, চারটি মুঠোফোনসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। এ ছাড়া জমির দলিলসহ জরুরি কাগজপত্রও তারা নিয়ে যায়। আজ শনিবার সকালে বাড়ির লোকজন চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাঁদের ধারণা, দুপুরে বাড়ি আসা লোকজন পানির ট্যাংকে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে ওই ট্যাংকের পানি পান করে সবাই অচেতন হয়ে পড়েন।
এই ঘটনায় আবুল হোসেনের মেয়ে শিরিন আক্তার মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, "পরিবারের সদস্যরা রাতে ওই ট্যাংকের পানিই পান করেন। সকালেও তাঁদের অস্বস্তি ও ঘুম ঘুম ভাব ছিল।"
মির্জাপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।