‘আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করল, তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননিসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখিনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কী একটা হ্যাভক (বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি) সৃষ্টি করা হলো। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন, যে যত অপবাদই দেন না কেন, সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না।’
শনিবার দুপুরে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
পরীক্ষা গ্রহণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘সিটি কলেজের এক মেয়ে আমাকে প্রশ্ন করে বলে, “স্যার বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিলেন?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, আমি জানি, বৃষ্টি হয়েছে। সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত।” সেই সঙ্গে আমি এটাও বললাম, “আমার মেয়ে তানজিদা। ওর মাথায় বৃষ্টির পানি পড়লে জ্বর আসে, ফার্মের মুরগির মতো। তোমাদেরও জ্বর আসে কি না? সেই জন্য আমি খুব উদ্বিগ্ন। কিন্তু কী করা যাবে? আমাদের তো সবার সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা নিতে হয়।” কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ কথার একটা ন্যারেটিভ দাঁড় করাল। তারা এই ন্যারেটিভকে নেগেটিভে নিয়ে গেল। এভাবে জাতি যদি অর্ধকানা হয়ে যায়, তাহলে তো আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।’
শিক্ষার মানোন্নয়নের গুরুত্ব উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আজ তাঁরই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কী করে ভাবতে পারেন, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না। আপনারা আপনাদের দায়িত্বে অটল থাকুন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ হাছানাত আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং যে শিক্ষা রাষ্ট্র ও ব্যক্তিজীবনে কাজে আসবে না, তা থেকে দূরে সরে যেতে হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে এই অঞ্চলের বাতিঘর হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরের অংশ। অনুমোদন পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এসময় তিনি শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগার ও কম্পিউটার ল্যাব পরিদর্শন করেন। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের ৮০ জন শিক্ষার্থীর হাতে আমগাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউজিসি আইন বিভাগ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ খোলার অনুমোদন দেয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন থেকে আনুষ্ঠানিক পাঠদান শুরু হবে।