আগামীকাল রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো পেশাদার ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় অনেক পুরনো।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন এবং কাতালান দৈনিক 'দিয়ারিও স্পোর্ত'-এর একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালের সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন তৎকালীন বার্সেলোনা তারকা মেসি। একটি ছোট প্লাস্টিকের বাথটবে বসে থাকা শিশু ইয়ামালকে গোসল করিয়ে দেওয়ার সেই ছবি ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচিত। ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক ফ্যান ইভেন্টে কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই স্মৃতিচারণ করেন মেসি।
স্পেন ও বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী তারকা ইয়ামাল সম্পর্কে মেসি বলেন, ‘সে যখন ছোট শিশু, তখন আমি তার সঙ্গে একটা ছবি তুলেছি। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়াটা অবিশ্বাস্য। সে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি তার সাফল্য কামনা করি। কারণ, ওর ভালো হওয়া মানে বার্সেলোনারও ভালো হওয়া।’
তরুণ এই প্রতিপক্ষের দক্ষতার প্রশংসা করে মেসি আরও বলেন, ‘লামিনে অসাধারণ খেলোয়াড়। আমি ওর খেলা খুব কাছ থেকে দেখেছি। কারণ, ও এমন একটা ক্লাবে (বার্সেলোনা) খেলে, যাকে আমি ভালোবাসি এবং সব সময় যার মঙ্গল চাই। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম এক তারকা, পুরো ক্যারিয়ারই তো সামনে পড়ে আছে। ওর সামনে এখন ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন এবার অন্তত ও সেটা করতে না পারে। আমি ওর সাফল্য কামনা করি। আর সত্যি বলতে, ওই ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য—জীবন কত অদ্ভুত!’
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে নামছে আর্জেন্টিনা, ফলে দলের ওপর প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। এই চাপ এবং কঠিন প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘অনেক আবেগ নিয়ে ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে আমরা ছোট থেকে বড় হয়েছি। ফুটবল খেলতে, আনন্দ করতে আর নিজেদের উজাড় করে দিতে সব সময় মুখিয়ে থাকতাম। তা সে স্কুলেই হোক, রাস্তায় কিংবা কোনো ক্লাবে। আমাদের সবার শুরুটা হয়েছে ছোটবেলায় পাড়ার কোনো এক দলের হয়ে।’
চাপ সামলানোর কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘চাপ নিয়ে আমরা কখনোই ভাবি না। মাঠে নেমে খেলাটা উপভোগ করাকে আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই নিই। আমরা একটি প্রতিযোগিতামূলক দল, জিততে ভালোবাসি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, খেলাটা দলীয় , প্রতিপক্ষও জেতার জন্য মাঠে নামে এবং সব সময় জেতা যায় না। ছোটবেলাতে আমি একটা জিনিস শিখেছি, জয়ের চেয়ে হারতেই হয় বেশি; আর এ শিক্ষাই আমাকে একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।’