সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন সরকারি খাসজমি দখল করে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি এই সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি জমিতে অন্তত ৫০টি দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এই অবৈধ দখলের সঙ্গে আটজন ব্যবসায়ীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়াইনঘাট উপজেলার চৈলাখেল তৃতীয় খণ্ড মৌজার সরকারি খাসজমির একটি অংশ বিজিবি অধিগ্রহণ করলেও অবশিষ্ট প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ একর জমি বিভিন্ন ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। প্রতিবেদনে ওই আটজন দখলদারের নাম ও গড়ে ওঠা ৫০টি দোকানপাটের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

খাসজমি দখলে জড়িত ওই আট ব্যবসায়ী হলেন— গোয়াইনঘাটের নলজুরী এলাকার আবদুল কুদ্দুছ ও তাঁর ভাই ফারুক আহমদ, গোয়াইনঘাট মোহাম্মদপুরের আনোয়ার হোসেন ওরফে জুবের আহমদ, জৈন্তাপুরের কানিকপাড়া এলাকার নুরুজ্জামান এবং গোয়াইনঘাট লাখেরপাড় এলাকার আলম বখত, বাবুল বখত, রায়হান ও উমর আলী।

গত ১০ এপ্রিল মুক্তকণ্ঠের ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় ‘অবৈধ স্থাপনায় সংকটে পর্যটন’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জাফলংয়ের এই খাসজমি দখলের বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম গত ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদনটি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে জমা দেন। সেখান থেকে প্রতিবেদনটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৌঁছায়।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী ১৩ জুলাই প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে প্রেরণ করেছেন। এ বিষয়ে ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, "জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"