বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝে ফুটবল বিশ্বে এখন বড় আলোচনার বিষয় লিওনেল মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি বর্তমানে ইউরোপের কোনো লিগে খেলছেন না, যা অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে—তিনি কি এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দৌড়ে থাকতে পারবেন?

পুরস্কারটির স্বত্বাধিকারী সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ এই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়নি। চলতি বিশ্বকাপের মধ্যেই তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ‘প্রেস রুম’ সেকশনে একটি ফিচার প্রকাশ করা হয়েছে, যার শিরোনাম—‘ইউরোপীয় ক্লাবে না খেলেও কি ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব?’ নিবন্ধটির ফিচার ইমেজে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি ব্যবহার করা হলেও ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা, এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসি।

১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই পুরস্কারটি শুরুতে শুধুমাত্র ইউরোপীয় লিগের ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৫ সালে নিয়ম পরিবর্তনের পর বিশ্বের যেকোনো দেশের খেলোয়াড় এতে অংশ নিতে পারেন, তবে শর্ত ছিল তাঁকে ইউরোপের লিগেই খেলতে হবে। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বের সেরা ফুটবলারই এই পুরস্কার পাবেন, তিনি ইউরোপের ভেতরে খেলুন বা বাইরে।

২০২৩ সালে অষ্টম বার ব্যালন ডি’অর জয়ের সময় মেসি ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড় ছিলেন। তবে এখানে একটি বিশেষ দিক ছিল। ২০২২ সাল থেকে ক্যালেন্ডার বছরের পরিবর্তে ‘মৌসুম’ (আগস্ট থেকে জুলাই) ভিত্তিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়। ফলে ২০২৩ সালের পুরস্কারটি পাওয়ার সময় তিনি মায়ামিতে থাকলেও, তাঁর বিবেচ্য পারফরম্যান্স ছিল পিএসজির হয়ে ইউরোপীয় মৌসুম এবং ২০২২ বিশ্বকাপ।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সান্তোসের হয়ে নেইমারের মনোনয়নের পর ছেলেদের ফুটবলে ইউরোপের বাইরে খেলা কোনো খেলোয়াড় আর ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি। তবে নারী ফুটবলে ২০১৯ সালে সিয়াটল রেইন এফসিতে খেলে মেগান রাপিনো এই পুরস্কার জিতেছিলেন।

৩৯ বছর বয়সে মেজর লিগ সকারে দাপট দেখালেও ইউরোপের তারকাদের টেক্কা দেওয়া কঠিন মনে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্স হিসাব বদলে দিয়েছে। এই বিশ্বকাপে তিনি ৮টি গোল করেছেন এবং ৪টি গোল করিয়েছেন, যা দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের ফলাফল যাই হোক, টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ এবং ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে মেসিই এখন সবচেয়ে এগিয়ে।

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর নির্ধারিত হবে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, যেখানে বিশ্বকাপের প্রভাব হবে অপরিসীম। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে এই সময়পঞ্জিতে মেসির গোল সংখ্যা ৪৫টি। ইন্টার মায়ামির হয়েও দারুণ ছন্দে থাকায় ক্যারিয়ারের নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রবল সুযোগ রয়েছে তাঁর।