৪ বলে ৪ ছক্কা—মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ব্যাটেই কি ম্যাচটা নির্ধারিত হলো? জয়ের ব্যবধানটা ৩৪ রান হলেও শেষ ওভারে ২৮ রান এনে চাপটা অনেকটাই নিজেদের পক্ষে টেনেছেন তিনি—এমনটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলেই মনে হচ্ছে।

বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিতে আজ একটি সময় পর্যন্ত বড় রানের পথেই ছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতেই চলে এসেছিল ১২০ রান। তবে এই ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডারদের অবদানও ছিল চোখে পড়ার মতো—এক সাইফ হাসানের ক্যাচই তাঁরা ফেলেছেন পাঁচবার। তানজিদ–সাইফের জুটিটা টি–টুয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ওই রকম শুরুর পর হঠাৎ করেই ইনিংসে ধস নামে। ১৩ বল আর ১৯ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। ৪৫ বলে ৫৫ রান করে সিকান্দার রাজার করা ১৫তম ওভারে সাইফ বোল্ড হওয়ার চার বলের মধ্যেই এনগারাভা বোল্ড করেন ৪৪ বলে ৫৮ রান করা তানজিদকে।

এরপর দ্রুতই ফেরেন তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন আর নুরুল হাসান—তাঁরা ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। বাংলাদেশের রান দেড় শ ছুঁইছুঁই হবে কি না, তা নিয়ে তখন সংশয় তৈরি হয়। শেষ দিকে অবশ্য ইয়াসির ও সাইফউদ্দিনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। ১২ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির। মাত্র ১০ বল খেলে চার ছক্কায় ৩১ রান করে অপরাজিত ছিলেন সাইফউদ্দিনও।

এ ম্যাচে একটি রেকর্ডও করেছেন সাইফউদ্দিন। টানা চার বলে চার ছক্কা—বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানেরই এমন কীর্তি নেই। তবে এ প্রসঙ্গে তাঁর বোলার হিসেবেও একটি তিক্ত স্মৃতি আছে। ২০১৭ সালে পচেফস্ট্রুমে তাঁকে ৫ বলে ৫ ছক্কা মেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার। ওই দুঃখটা হয়তো আজকের পারফরম্যান্সে কিছুটা হলেও কমেছে।

সাইফউদ্দিন ও ইয়াসিরের শেষের ঝড়ে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় জিম্বাবুয়ে শুরুর দিকেই চাপে পড়ে—প্রথম ৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারানোর পরও মিল্টন সামুবা ও সিকান্দার রাজার জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখেছিল তারা।

কিন্তু ১২ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর রিশাদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে রাজা আউট হলে ২৫ বলে ৪৪ রানের জুটি ভেঙে যায়। এরপর ২০ বলে ১৯ রান করা সামুবাও রিশাদের বলে বোল্ড হন।

৮০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ১৯ বলে ২৯ রান করা রায়ান বার্ল ও ১৪ বলে ২৫ রান করা ইভান্স চেষ্টা করলেও বেশি দূর এগোতে পারেননি। রিশাদ ৪ ও মেহেদী হাসান ৩ উইকেট নেন।

জয়ের ম্যাচেও বাংলাদেশের জন্য একটি অস্বস্তির খবর ছিল। সাইড স্ট্রেনের চোটে পড়ে নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের ১৩তম ওভারের মাঝপথেই মাঠ ছেড়েছিলেন নাহিদ রানা। তিনি আর পরে ফেরেননি।

আগামী রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি দুদল। এখন ১–১ ব্যবধানে সমতা আছে।