ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দরের প্রাচীরসংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছাতে পারেননি মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করায় সেখানে কোনো জমায়েত বা কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারাটি পূর্বের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারার অনুরূপ।

গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় এবং শান্তিপূর্ণ দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে আজ বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পরবর্তীতে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে নিকটস্থ অন্য একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এদিকে কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় নামাজের সময় মুসল্লিদের হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।

সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট ও আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) ও জলকামান মোতায়েন করা হয়। পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখে বিধাননগর পুলিশ। মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিমানবন্দরসংলগ্ন বাঁকড়া মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে থেকেই সেখানে যাতায়াত ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, "১১ জুলাই থেকে মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়ে দিয়েছেন যে বিমানবন্দরসংলগ্ন ওই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না। মসজিদ কমিটির দাবি, ১৩৬ বছরের পুরোনো এই মসজিদে নামাজ বন্ধের আগে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি এবং কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি।

মসজিদ কমিটির ভাষ্যমতে, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদে একসময় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করতেন। এমনকি অবিভক্ত ভারতের সময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক মুসল্লি সেখানে যেতেন।

মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পুনর্বহাল এবং বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট খুলে দেওয়ার দাবিতে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে আজ জমায়েতের চেষ্টা করা হলেও কঠোর নিরাপত্তা ও ১৬৩ ধারা জারির কারণে তা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার ফলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ওই অঞ্চলটিতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।