নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের চারটিতেই দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির ছয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাঁরা নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি। এতে দলীয় প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পাশাপাশি দলীয় ‘বিদ্রোহীদের’ চাপও সামলাতে হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ): এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন, যাঁর প্রতীক জাহাজ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন। দুলাল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তিনি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও ভোটের মাঠে আছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার): এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমান খান। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীক পেয়েছেন। আতাউর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সাধারণ মানুষের চাওয়াতেই তিনি নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ): এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম। তাঁর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। রেজাউল করিমের প্রতীক ঘোড়া এবং গিয়াস উদ্দিনের প্রতীক ফুটবল।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা): এই আসনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমীকে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম এবং মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। শাহ আলম প্রতীক পেয়েছেন হরিণ এবং গিয়াস উদ্দিন প্রতীক পেয়েছেন ফুটবল।

জেলার পাঁচটির মধ্যে একমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কোনো ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নেই। এখানে তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম বিএনপির প্রার্থী। দলের কর্মীরা তাঁর পক্ষে একতাবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি ‘বিদ্রোহী’ পাঁচ নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। তবে বহিষ্কৃত নেতারা বলেছেন, তৃণমূলের চাপে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণেই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দল যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমাদের সবার দায়িত্ব তাঁর পক্ষে কাজ করা। যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের দল বহিষ্কার করেছে।’