রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রম থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ঢাকার আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে বিপুলসংখ্যক ভক্তের অংশগ্রহণে এই রথযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে।

নির্ধারিত রুট অনুযায়ী, রথযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, রমনা কালীমন্দির অভ্যর্থনা, দোয়েল চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল এবং পলাশী মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।

ইসকন ৯ দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় আজ সকাল আটটায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে। পরবর্তীতে বেলা দেড়টায় স্বামীবাগ ইসকন মন্দির অডিটরিয়ামে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং আড়াইটার দিকে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নিতাই স্বামী, ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি গোকুল ভি কে, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য দেবাশীষ রায় মধু এবং ইসকন বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস।

উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল দল, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুট পেট্রল, বাইক মোবাইল টিম, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও ট্রাফিক পুলিশ তৎপর রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার কাজে ইসকনের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন।

আয়োজনের নবম দিনে আগামী ২৪ জুলাই বেলা তিনটায় ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে একই পথে উল্টো রথযাত্রা স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসবে।