তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য এবং টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক আজ বৃহস্পতিবার ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পরপরই তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আজ সকালে কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর পদত্যাগপত্র হাতে তুলে দেন। এর আগে ১১ জুন তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে উপরাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠালেও তা গৃহীত হয়নি। তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, সশরীরে উপস্থিত হয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও ভারতের উপরাষ্ট্রপতির হাতে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের কোটায় রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তাঁর সঙ্গে আরও তিন তৃণমূল প্রার্থী—সাবেক পুলিশ ডিজি রাজীব কুমার, সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী সদস্যপদ লাভ করেন। কোয়েল মল্লিকের বাবা রণজিৎ মল্লিক পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র জগতের একজন বিশিষ্ট অভিনেতা।
এর আগে ৯ জুলাই তৃণমূলের তিন রাজ্যসভা সদস্য শুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ওই দিনই বিজেপি তাঁদের আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী করার ঘোষণা দেয়। কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।
রাজ্যসভার পদ ছাড়ার পরপরই কোয়েল মল্লিক দিল্লির বাসভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, শুখেন্দু, সুস্মিতা ও প্রকাশ বরাইকের পথ অনুসরণ করে তিনিও বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। উল্লেখ্য, ভূপেন্দ্র যাদবের মাধ্যমেই লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছিলেন। ওই ২০ সদস্য লোকসভায় পৃথকভাবে বসার জন্য স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানিয়েছেন। ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগেই স্পিকার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।