অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আরও একজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) বস্ত্র অধিদপ্তরের (কারিগরি) সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির।
দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, "এ নিয়ে মামলাটিতে ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।"
সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে আদালত আগামী ১৭ আগস্ট পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিছু আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। সেই সময়েই তিনি দেশ ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের ৮ মার্চ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩ মে তাঁর অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা জানিয়েছিলেন। তবে তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। তাঁর বৈধ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা এবং ব্যয় বাদ দিয়ে নিট সঞ্চয় ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ অবৈধ অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও অর্থ স্থানান্তর করেছেন।
এদিকে, দুদকের মামলার প্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশের’ ভিত্তিতে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমিরাত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।