দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের অবস্থান একই রকম বলে দাবি করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়-৭১ চত্বরে ‘বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিপন্ন মানবতার ভোগান্তি ও দুর্ভোগ’ শীর্ষক এক গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টির আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও জনগণ এর সুফল পায়নি। এই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, কারা দায়ী—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।"
মজিবুর রহমান মঞ্জু অবিলম্বে সরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বাবদ অতীতে যে অর্থ লুটপাট হয়েছে, তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে নয়, বরং সমাধানের রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৩ হাজার ৪ কোটি টাকা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি বলেন, "এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, সে পরিকল্পনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।"
সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আচরণ ও বক্তব্যের সমালোচনা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "বিএনপির মন্ত্রী ও নেতারা আচরণ–কথাবার্তায় তারেক রহমানকে অনুসরণ না করে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে অনুসরণ করছেন। তাঁদের উচিত, নিজের নেতার আচরণে যে নমনীয়তা, তা অনুসরণ করা।"
শিক্ষার্থীদের বারবার রাজপথে নেমে দাবি আদায়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জনগণের সমস্যা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছে কেন? এরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।"
দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ওহাব মিনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম খালিদ হাসান, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, শ্রমিকনেতা শাহ আবদুর রহমান এবং ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।