ম্যাচ তখন মাত্র শুরু হয়েছে—আরও নির্দিষ্ট করে বললে, মিনিট তিনেক। এই সময়েই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যান লিওনেল মেসি ও জুড বেলিংহাম—দুই প্রজন্মের দুই তারকা। দুজনের মধ্যে দৃশ্যতই উত্তেজনা ছিল।
মাঠের একটি মুহূর্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনাও তৈরি হয়। দেখা যায়, কথার লড়াই শেষে মেসির দিকে বেলিংহামের দিকে কড়া দৃষ্টির ভঙ্গি ও মাথা নাড়ার ভঙ্গি—যা পরে ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ।’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।
আসলে কী হয়েছিল তখন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি-বেলিংহামের বিবাদের ঘটনার ভিডিও ‘ভাইরাল’ ম্যাচের সময় থেকেই। এ বিষয়ে ম্যাচ শেষে জানতে চাওয়া হয়েছিল বেলিংহামের কাছে। ইংলিশ এই ফুটবলার অবশ্য বিষয়টিকে খুব হালকাভাবেই নিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, মেসির সঙ্গে তাঁর তেমন কিছুই হয়নি, ‘আসলে আমরা একটা ফাউল নিয়ে কথা বলছিলাম। তবে তেমন খারাপ কিছু ছিল না। আমি নিশ্চিত, সবাই বিষয়টিকে বড় করে দেখাবে। কিন্তু সত্যি বলতে, তেমন কিছুই হয়নি।’
কোন ঘটনা থেকে দুজন একে অপরের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, সেটি ব্যাখ্যা করে বেলিংহাম বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, একটু আগে একটা ফাউল হয়েছে। ও (মেসি) বলল, ‘‘তাহলে আমার ওপর করা ফাউলটার কী হবে?’’ আমি তখন বলছিলাম, তুমি তো এসব সামলানোর মতো যথেষ্ট শক্তিশালী। ব্যস, এতটুকুই।’
টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ইংলিশরা। তবে শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ম্যাচের ধারা বদলে দেয়। ৮৫ মিনিটে মেসির পাস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের বুলেটগতির দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৯২ মিনিটে মেসির মাপা ক্রস থেকে বদলি নামা লাওতারো মার্তিনেজের হেডে স্কোরলাইন হয় ২-১।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্নই ছিল বেলিংহামের কাছে—মেসির সঙ্গে ওই মাঠের লড়াই প্রসঙ্গে। জবাবে তিনি হাসিমুখে উত্তর দেন। পাশাপাশি মেসিকেও প্রশংসায় ভাসান, ‘মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমরা হেরে গেছি, খারাপ লাগছে সত্যি। তবে এই মানুষটার বিপক্ষে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারাটাও এক বড় গর্বের।’