যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা দেয় এমন সব করিডর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির সংবাদমাধ্যমে এই খবরের কথা জানানো হয়েছে।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।’

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সংকীর্ণ প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ইরানের প্রেস টিভির খবর অনুযায়ী, গত সোমবার হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তবে তাঁরা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছেন। তাঁর দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বেড়ে ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরবের বোমা হামলার অভিযোগ এনে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। এর ফলে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে হুতিরা ইতিপূর্বেই এই প্রণালি বন্ধ করার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তাদের দাবি ছিল, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে তারা নিশানা করছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা ‘দুর্বল করতে’ নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকার কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় টানা সাত ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়েছে।

এর জবাবে আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করত। আইআরজিসির আরও দাবি, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।