নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই নারী আত্মগোপনে চলে যান।
শিশুটি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার পাইকারদী এলাকার জহিরুল হক ও সায়েবা বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। অভিযুক্ত লতা বেগম জহিরুল হকের বড় ভাই কাওসার হকের স্ত্রী।
.এ ঘটনায় জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে ওই পরিবারের তিনজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার পর ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সম্পাদিত দাবি করে পরিবারের পক্ষ থেকে মীমাংসার কথা বলা হচ্ছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে লতা বেগম, তাঁর বাবা আলমাছ মিয়া ও স্বামী কাওসার হককে। এর মধ্যে লতা পলাতক। অন্য দুজনকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আটকের পর রাতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
.সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে খাটে শুইয়ে রেখে মা সায়েবা বেগম বাইরে যান। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির চাচি লতা বেগম ঘরে ঢুকে তার একটি পায়ে মোচড় দেন।.
মামলার বাদী রিজা আক্তার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মনোমালিন্য ও আর্থিক বিষয় নিয়ে দুই জায়ের মধ্যে বিরোধ থেকে শিশুটির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন পারিবারিক সম্পর্ক নষ্টের ভয়ে তাঁরা অভিযোগ দিতে চাইছেন না। শিশুটির সঙ্গে এমন নির্মমতা ছেড়ে দেওয়া যায় না। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করেছি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটিকে খাটে শুইয়ে রেখে মা সায়েবা বেগম বাইরে যান। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির চাচি লতা বেগম ঘরে ঢুকে তার একটি পায়ে মোচড় দেন। এতে শিশুটি জোরে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। পরে ঘর থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যান লতা।
.পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুই জায়ের পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির ওপর এর আগেও নির্যাতন করা হয়ছে বলে অভিযোগ আছে। শিশুটির মা লক্ষ করছিলেন, তিনি বাইরে গেলে শিশুটি হঠাৎ চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। বিষয়টি কী, বোঝার জন্য তিনি গত রোববার সন্ধ্যায় মুঠোফোনের ভিডিও রেকর্ডিং চালু করে গোপনে জানালার পাশে রেখে বাইরে যান। পরে ভিডিওতে তিনি ঘটনাটি দেখতে পান।
ভিডিওটি দেখার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, তার পা ভাঙেনি। তবে আঘাতের কারণে শিশুটি ব্যথা পাচ্ছে।
.আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমার সন্তানও এখন সুস্থ আছে।জহিরুল হক, শিশুটির বাবা
শিশুটির বাবা জহিরুল হক বলেন, ‘এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমার সন্তানও এখন সুস্থ আছে।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় বলে জানান মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন। পরিবার বিষয়টি মীমাংসার কথা বললেও অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।






