ফুটবল ইতিহাসের এক চিরন্তন রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই স্মৃতি আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে অম্লান। এবার সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার এই মহারণকে একটি বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন কিংবদন্তি ম্যারাডোনার পুত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘আমার বাবা এটাকে কোনো সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখতেন না। আমরা অনেক কিছুই বলতে পারি, তবে এটি কোনো সাধারণ ম্যাচ হবে না।’
খেলার মাঠের উত্তাপের পাশাপাশি এই ম্যাচের সাথে জড়িয়ে আছে গভীর আবেগ ও ইতিহাস। স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘সব আর্জেন্টাইন এবং ম্যারাডোনা–ভক্তদের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। এই ম্যাচ ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং সেখানে আমাদের যেসব ভাই মারা গেছেন, তাঁদের কথা মনে করিয়ে দেয়। পাশাপাশি ১৯৮৬ সালে আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা–ও মনে করায়। আমার বাবা সেবার একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছিলেন। এর পর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ম্যাচই আর স্বাভাবিক থাকেনি।’
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের এপ্রিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যাতে ৯০৭ জন মানুষ প্রাণ হারান। এর ঠিক চার বছর পর ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দেশ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। যার প্রথমটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত এবং দ্বিতীয়টি ফিফার জরিপে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয়লাভ করেছিল।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সর্বশেষ ২০০৫ সালের নভেম্বরে মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে জয় পায়। আগামীকালের ম্যাচটি নিয়ে ৩৯ বছর বয়সী ম্যারাডোনা জুনিয়র মনে করেন, এটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচ আমাদের দলের জন্য কঠিন হতে যাচ্ছে। এটা ঠিক যে ইংল্যান্ড ভালো খেলছে। তবে সাবধান—তাদের কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে হবে। এটি বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে...দুই দলের জন্যই।’






