মাগুরার শালিখা উপজেলার চুকিনগর এলাকায় আধা পাকা ও টিনের বেড়া দেওয়া দুটি জরাজীর্ণ ঘর নিয়ে একটি কলেজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। চারপাশ ঝোপঝাড় ও ময়লায় ভরা, এমনকি বারান্দায় গজিয়েছে ঘাস-লতা। প্রতিষ্ঠানের কোনো নামফলক পর্যন্ত নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত সাত বছর ধরে সেখানে কোনো ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এমন এক অকার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দেড় কোটি টাকা।
দেশের অনেক সচল ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, তখন এই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। জেলার দুটি সংসদীয় আসনে পরিচালন বাজেটের আওতায় ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজ। নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার বা আধা সরকারি পত্র পাঠানোর পর সেই ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে, বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা, একাডেমিক সক্ষমতা কিংবা শিক্ষার্থীর উপস্থিতির মতো মৌলিক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরের মাধ্যমেই এই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ দাবি করেছেন যে, "সেখানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি আছে এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে তারা প্রতিষ্ঠানটি ঠিকমতো চালাতে পারেননি।" তবে মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিস কিংবা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। উল্লেখ্য, পদাধিকারবলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমের কোনো খোঁজ নেননি। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতা চরম প্রশ্নবিদ্ধ।
যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার মান। যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘকাল পড়াশোনা বন্ধ, সেখানে আগে একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তা না করে সরাসরি দেড় কোটি টাকার ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। জনগণের করের টাকার এমন অপচয় অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বরাদ্দ প্রদানের আগে দেশব্যাপী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সক্ষমতা যাচাই বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হচ্ছে।






