মুক্তকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা: রেলের আনিসুরপ্রীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের পর বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ইজারা ও ঠিকাদারি কার্যক্রমের অভিযোগ তদন্তের জন্য এই কমিটি গঠন করে।
আজ মঙ্গলবার জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তকণ্ঠের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন ঠিকাদারি কার্যক্রম, কমলাপুর রেলস্টেশনের অভ্যন্তরে দোকানের স্থান বরাদ্দ, বিভিন্ন রেলস্টেশনের গণশৌচাগার ও পার্কিং ইজারা এবং দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং রেলওয়ের ভাবমূর্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং প্রযোজ্য আইন, বিধিবিধান ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রূপম আনোয়ার। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসচিব বি এম মশিউর রহমান এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন যুগ্ম সচিব মো. তবিবুর রহমান।
কমিটিকে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত, কমলাপুর রেলস্টেশনসহ সংশ্লিষ্ট ইজারা ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা, দরপত্র প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় নথি ও রেকর্ড সংগ্রহ ও পর্যালোচনারও দায়িত্ব রয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রশাসনিক ত্রুটি পাওয়া গেলে তার কারণ ও দায়দায়িত্ব নিরূপণ করে কমিটিকে মতামত দিতে হবে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, কমিটিকে সুস্পষ্ট মতামত ও সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন আদেশ জারির তারিখ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য, নথি, রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতাও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।