আটলান্টায় আগামীকালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। টিকিটের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই, ফিফা এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বিশেষ বৈঠকে বসেছেন। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী ‘বারা ব্রাভাসে’র সদস্যরা এই ম্যাচ দেখতে আটলান্টা যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।
স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থক এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর জন্য কুখ্যাত এই ‘বারা ব্রাভাসে’। ইউরোপীয় ‘আল্ট্রাস’দের আদলে তারা মাঠে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির জন্য পরিচিত। এছাড়া মাদক ব্যবসা এবং টিকিটের কালোবাজারির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও তাদের দুর্নাম রয়েছে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘তদো নোতিসিয়াস’–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা সমর্থকেরা যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, এ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা সরকার তাদের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা ‘ফ্যালকন অ্যালার্ট’ কার্যক্রমে পরিবর্তন এনেছে। পূর্বের নিয়মে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা কোনো সমর্থক আর্জেন্টিনা ত্যাগ করলেই স্বাগতিক দেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠানো হতো। তবে এখন থেকে এই তথ্য সরাসরি পাঠানো হবে আর্জেন্টিনার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা–সংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক ফ্রাঙ্কো বার্লিনের কাছে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করছেন ফ্রাঙ্কো বার্লিন। নতুন এই নিয়মের ফলে তিনি নিজেই সরাসরি মার্কিন কর্মকর্তাদের যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠাতে পারবেন।
পাশাপাশি আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনের কাছে মার্সিডিজ–বেঞ্জ স্টেডিয়ামের আশপাশে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্টেডিয়ামের ভেতরে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ইতিমধ্যে ৩৫ হাজার আর্জেন্টাইন নাগরিকের একটি তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে আর্জেন্টিনা সরকার, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।






