লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলার সুযোগকে অনেকে সৌভাগ্য হিসেবেই দেখেন। কয়েকজন ফুটবলার দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তা উল্লেখ করেছেন। মঞ্চটা যদি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হয়, তবে সেই উপলক্ষ আরও বড়—বিশেষ করে দায়িত্বটা যদি মেসিকেই সামলানোর হয়। আগামীকালের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের হয়ে যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, তাঁদের একজন নিকো ও’রাইলি।

২১ বছর বয়সী এই ইংলিশ ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘জীবনে একবারই পাওয়া’ কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। এবারের বিশ্বকাপে টমাস টুখেলের প্রথম পছন্দের লেফটব্যাক হিসেবে খেলছেন ও’রাইলি। বুধবার আটলান্টায় তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি। ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেসিকে সামলানোর চ্যালেঞ্জটা তাই বেশ বড়।

মেসি এ বিশ্বকাপে এর মধ্যেই ৮ গোল করেছেন। এ প্রসঙ্গে ও’রাইলি বিবিসি রেডিওকে বলেন, ‘আমার আর তর সইছে না। জীবনে একবারই এমন সুযোগ পাওয়া যায়। মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। আমার মনে হয়, ফুটবল মাঠে পা রাখা সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় সে। আর তাই এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে আমি মুখিয়ে আছি।’

২০০৬ সালে মেসি যখন তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন, তখন ও’রাইলির বয়স ছিল মাত্র এক বছর। এখন মেসির শেষ বেলা—সেই বাস্তবতায় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজের মূল্যায়নও দিয়েছেন ও’রাইলি। তিনি বলেন, ‘ওদের দলে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। মেসি আছে, যে আমার চোখে ফুটবল বিশ্বের সেরা। কাজটা অনেক বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জের, তবে আমার নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস আছে। দেখা যাক কী হয়।’

আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে ফাইনালে জায়গা করে নেবে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনোবার তাদের ফাইনাল খেলা হয়নি। এ বাস্তবতায় স্বপ্ন দেখছেন ও’রাইলি। ‘আমি প্রতিনিয়ত পরবর্তী লক্ষ্যগুলো নিয়ে স্বপ্ন দেখি ও তা বিশ্বাস করি। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আমি কল্পনা করি—আমরা বিশ্বকাপ জিতে ড্রেসিংরুমে একসঙ্গে উদ্‌যাপন করছি, ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরছি আর দেশের মানুষ তা নিয়ে মেতে উঠেছেন। এটা হবে দারুণ এক অনুভূতি।’