চলতি বিশ্বকাপের আসরে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে দীর্ঘ since বিতর্ক চলছে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে মিসর সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছিল যে, রেফারির সিদ্ধান্ত মেসি ও আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে সুইজারল্যান্ডও তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে।
রেফারিং নিয়ে এমন টানাপোড়েনের মাঝে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচে ফিফা কাকে দায়িত্ব দেয়, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ছিল। নিয়ম মেনে ম্যাচের একদিন আগে অফিসিয়ালদের নাম ঘোষণা করেছে ফিফা। বহুল আলোচিত এই সেমিফাইনালের প্রধান রেফারির দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইসমায়েল এলফাত।
বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেন্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এলফাতকে সহায়তা করবেন তাঁরই স্বদেশি সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন দানিয়েলে বিনদোনি।
৪৪ বছর বয়সী এলফাত এই আসরে এর আগে তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান এবং উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর শেষ ষোলোয় ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচেও বাঁশি বাজিয়েছেন তিনি, যেখানে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল নরওয়ে।
ইউএসএ টুডের তথ্য অনুযায়ী, এলফাতের জন্ম মরক্কোয়। ২০০১ সালে ১৮ বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা লটারির মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং বর্তমানে টেক্সাসে বসবাস করছেন।
২০১২ সাল থেকে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ম্যাচ পরিচালনা করছেন এলফাত। ২০১৬ সালে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা, যেখানে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ফাইনালে তিনি চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
উত্তর আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত এলফাত ইতিপূর্বে ২০২২ এমএলএস কাপ ফাইনাল এবং ২০২৬ কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এছাড়া দুবার এমএলএস বর্ষসেরা রেফারির স্বীকৃতি পাওয়া এলফাত এখন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ পরিচালনার অপেক্ষায়।