সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধের পর এবার মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ব্যয় অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতদিন এই ব্যয় মাসিক ৫০ হাজার টাকা থাকলেও তা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এই সংক্রান্ত দুটি চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ বিভাগ। চিঠিতে জানানো হয়েছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণের পর গাড়ি সেবা নগদায়নের আওতায় মোটর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ আর্থিক সুবিধা পান, তা কমানোর সুযোগ রয়েছে। অর্থ বিভাগ উল্লেখ করেছে, "মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসে ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার হারে নির্ধারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।"
এর আগে সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ পেতেন, যা সম্প্রতি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বৃত্তি নিয়ে দেশে বা বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের প্রেষণ (ডেপুটেশন) সুবিধা বাতিল করে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার বিষয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে অনুরোধ করেছে অর্থ বিভাগ। এতে কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা হ্রাস পাবে।
অন্য চিঠিতে বলা হয়েছে, যারা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ পান, তারা পড়াশোনা, আবাসন ও জীবনযাত্রার জন্য আর্থিক সহায়তা পান। প্রেষণের ফলে তারা স্কলারশিপের পাশাপাশি পূর্ণ বেতন-ভাতার সুবিধাও পেয়ে থাকেন। এই ক্ষেত্রে প্রেষণের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, "পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ পাওয়া কর্মকর্তাদের প্রেষণের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।"
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এই নির্দেশনা কার্যকর হলে ওই সময়ে বেতন অর্ধেক পাওয়া যাবে।"