বিএনপি কি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। সংসদে তিনি উত্থাপন করেন বিরোধী দলের আসনগুলোতে সরকারদলীয় নারী সদস্যদের ‘অতিরিক্ত’ দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গ।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন যে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসন উৎখাতে সক্রিয় ছিলেন।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জীবা আমিনা খানের বক্তব্য ধরে আখতার হোসেন প্রশ্নটি তোলেন। একটি সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে জীবা আমিনা খান বলেছিলেন, ‘গতকালকে আমার অতিরিক্ত দায়িত্বের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করে এসেছি।’
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন আখতার হোসেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পীরগাছা উপজেলা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিনি (জীবা আমিনা) সেখানে যাওয়ার পরে বিএনপি নেতা–কর্মীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে শুনেছি—এ আসনে নির্বাচিত যে এমপি রয়েছেন, তিনি এমপি না, সংরক্ষিত আসনের যিনি এমপি, তিনিই ওখানকার এমপি। যে ধরনের কাজ হোক না কেন, তাঁর মাধ্যমে হতে হবে।’
আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘গতকালকে আমার অতিরিক্ত দায়িত্বের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করে এসেছি।’—এ বক্তব্যের পর আলোচনায় আসে—কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে। এনসিপি সদস্যসচিব এরপর জানতে চান—আসলে কোন বিষয়টি সত্য, অতিরিক্ত দায়িত্বের আওতা কত, তা কীভাবে পালন করা হবে এবং সেই অতিরিক্ত দায়িত্বের সাংবিধানিক বৈধতা কতটুকু।
প্রথমবার সংসদে আসা আখতার হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, সে আসনগুলোতে অতিরিক্ত দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে। এখানে আশঙ্কার জায়গা তৈরি করছে, বিএনপি কি বিরোধী দলের আসনে তাদের নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে চায়? বিষয়টি আমাদের কাছে অনানুষ্ঠানিক ছিল, কিন্তু সংসদে বলার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসেছে। আমরা সুরাহা চাই, সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাই।’
আখতার হোসেনের বক্তব্যের পর বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা নেই; পুরো বাংলাদেশেই তাঁরা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও অন্যদের মতো পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য উল্লেখ করে তিনি জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা থেকে তাঁরা যে বরাদ্দ পান, তা বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে দিতে পারেন।
কোনো সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সংসদে একটি বা দুটি এলাকাকে ‘আমার এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করলে তিনি নিজেই নিজের কার্যপরিধি সীমিত করেন বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন।