টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আমন ধানের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশি বীজতলা এবং আউশ ধানের আরও ৭৬ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের গতকাল রোববার পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের মোট ২৯টি জেলা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট ও মুন্সিগঞ্জ।
সরেজমিন উইংয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বন্যায় প্লাবিত ফসলি জমির মোট পরিমাণ ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৬ হেক্টর। এর মধ্যে আমন ধানের বীজতলা প্লাবিত হয়েছে ৯ হাজার ৬১৯ হেক্টর এবং আউশ ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ হেক্টর। এছাড়া ১৫ হাজার ৩২৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত বন্যায় তলিয়ে গেছে।
কৃষি-সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্লাবিত বীজতলার পানি দ্রুত না নামলে কৃষকেরা সময়মতো আমনের চারা রোপণ করতে পারবেন না। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, জমি প্লাবিত হওয়া মানেই তা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়; বৃষ্টি কমলে এবং পানি নেমে গেলে বীজতলা ও ধান রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল গতকাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “২৯টি জেলায় অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং এর দ্বারা সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। তবে প্লাবিত মানেই ক্ষতিগ্রস্ত নয়। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সময় লাগবে।”