‘আমাকে মনে রাইখেন। ভুইলে যাইয়েন না।’ ধন কিংবা মান নয়, কেবল এইটুকুই প্রত্যাশা ছিল। মিনতি করে বলা হয়েছিল, আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে। কিন্তু আপনারা আমাকে ক্রমাগতভাবে ভুলেই যাচ্ছেন। কিছুতেই যাতে ভুলে না যান, সেজন্য কত কাণ্ড ও কীর্তি করতে হলো। বাগিচায় বুলবুল ভাইয়ের গান বাজল, আবার গান থামল; তবু আপনারা আমারে মনে রাখলেন না, ভুইলাই গেলেন। আমি বিসিবির সভাপতি হইলাম, তবু রস+আলোর কভারে আসতে পারলাম না। আপনারা আমারে ভুইলাই রইলেন।

এরপর ভাবলাম, আপনারা হয়তো জয় পছন্দ করেন। আমরা পাকিস্তানরে হারাইলাম, অস্ট্রেলিয়ারে হারাইলাম, কিন্তু কোথাও কোনো মিছিল হলো না। অথচ আর্জেন্টিনা জিতলে আপনারা মিছিল বাইর করেন, ব্রাজিল জিতলে সাম্বা নাচ নাচেন। এইটা কোনো কথা! তারপর যখন ব্রাজিল হারল, বাংলাদেশের মানুষ কান্দে আর কান্দে। কানতে কানতে বুড়িগঙ্গায় জোয়ার এল, বুড়িগঙ্গা এখন জোয়ানগঙ্গা। তখন আমারে শান্ত কয়, ভাই, ভাই, বুদ্ধি পাইছি, আমরা যদি হারি তাইলে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের মনে রাখব। তো আমরা হারা শুরু করলাম। ওডিআই জিইতা টি–২০ হারলাম, তাও কেউ কোনো কথা বলে না। তখন আমারে মুশফিকুর রহিম কইল, ওই তামিম, শুন, উপায় একটা আছে।

মাথা খারাপ! রস+আলোর সম্পাদক আমি হব? প্রশ্নই আসে না: চঞ্চল চৌধুরী।

মুশফিকুর রহিমের পরামর্শ ছিল, জিম্বাবুয়ের কাছে যদি টেস্ট হারি, তাইলে লোকে আমগো লইয়া কথা কইব। আচ্ছা, চল হারি। খুব কষ্ট হইছে হারতে। জিম্বাবুয়ের সাথে হারা কি সোজা কথা। তবে হারছি। সেই গো-হারা। ইনিংস ডিফিট। তাও আপনারা আমাগো লইয়া একটা কথা কন না। শেষে মিরাজ কইল, ভাই, আপনারে মনে রাখনের উপায় পাইছি। ওয়ানডেতে হারতে হইব। তাই করলাম। জিম্বাবুয়ের কাছে ওডিআইতে গু-হারা হারছি। তাও আপনারা মনে রাখলেন না।

তবু আমারে দেব না ভুলিতে। নেইমারের জন্য কানতে পারেন, মিসরের সালাহর জন্য কানতে পারেন, কেপ ভার্দের ভোজিনিয়ার জন্য কানতে পারেন, মেসির আবেগে আপনারা কাইন্দালতে পারেন, খালি তামিমের জন্য এক ফোঁটা চোখের পানি কই ফেলতে পারলেন না।

আর কী করলে আপনারা আমারে মনে রাখবেন? আমারে ভুইলা গেলেন ভাই। এইটা কোনো কাজ করলেন?

— তামিম ইকবাল (যে কথা বলেননি)।