রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বেসরকারি অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে টেলিটককে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

আজ রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইয়াসমিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। টেলিটকের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘টেলিটককে আমাদের বাজারে রাখতেই হবে। সরকারের কাছে রাখতেই হবে।’ তিনি সতর্ক করেন যে, টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো সেবার মূল্য ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দিতে পারে।

টেলিটককে আরও উন্নত করতে নতুন টাওয়ার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মাহবুব আনাম জানান, এজন্য সরকারের অর্থায়নের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ৭ বা ১৫ দিনের প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডেটা নিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সরকার উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। এই বিষয়ে বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, তবে অপারেটররা তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা বলে বিভিন্ন যুক্তি দিচ্ছে। কলড্রপ সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় অপারেটরদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার এক সম্পূরক প্রশ্নে অভিযোগ করেন, বিটিআরসির নিয়মিত কাজ হিসেবে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও সেটিকে ‘গবেষণা’ দেখিয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের আলাদা সম্মানী দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে বিস্তারিত জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী।

এদিকে, সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম তাঁর এলাকার অনেক ডাকঘর জরাজীর্ণ হয়ে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হওয়ার কথা জানান এবং সংস্কার সম্ভব না হলে সেগুলো বিলুপ্ত করার দাবি জানান। জবাবে মন্ত্রী জানান, সারা দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে এবং অধিকাংশই জরাজীর্ণ। সবকটি একসঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে কাজ করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্য মো. মুক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল-সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট-সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ মোট ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, টেলিটক-বাংলালিংক একীভূত করতে আগ্রহী বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন।