২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনই প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা পাওয়ার এই উন্মুক্ত লড়াইয়ে দলটির কোনো শীর্ষ নেতার নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এই লড়াইয়ে অংশ নিতে ডেমোক্রেটিক দলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, সিনেটর এবং সাবেক প্রার্থীরা সেসব অঙ্গরাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন, যেগুলাতে প্রাথমিকভাবে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের (প্রাইমারি) ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তাঁরা বড় বড় দাতাগোষ্ঠীর মন জয়ের চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ তুলে ধরে নতুন বই প্রকাশ করছেন।
দুই মেয়াদের সীমাবদ্ধতার কারণে রিপাবলিকান–দলীয় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। তাই রিপাবলিকানদের নতুন প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যেই ডেমোক্র্যাটদের এই দৌড়ঝাঁপ।
২০২৮ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেননি। তবে ভেতরে-ভেতরে জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ডেমোক্রেটিক দলের ভেতরে মনোনয়নের লড়াই মূলত এ বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই চূড়ান্ত রূপ নিতে শুরু করবে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাঁরা এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন, তাঁদের পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা যাক।
.ডেমোক্রেটিক দলের বেশ কয়েকজন গভর্নরকে এই দৌড়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক সফর, নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ এবং জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের পরিচিতি বৃদ্ধির মাধ্যমে তাঁরা এখনই সবার নজর কাড়ছেন।
.চলতি বছর অ্যান্ডি বেশিয়ার ডেমোক্রেটিক গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে পুরোপুরি রিপাবলিকান–অধ্যুষিত একটি অঙ্গরাজ্যে নিজের শাসনকালের সাফল্য দেশজুড়ে প্রচার করার বড় সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তাঁর পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিতে (রাজনৈতিক তহবিল) বর্তমানে ১৮ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জমা রয়েছে।
.ইতিমধ্যে অ্যান্ডি মনোনয়ন লড়াইয়ের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত সাউথ ক্যারোলাইনা, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও আইওয়া সফর করেছেন। গত মে মাসে এমএস নাও টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম আলোচনায় থাকা নিয়ে অ্যান্ডি বলেন, ‘আমি এই আলোচনায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।’
সবল দিক: ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে কেনটাকি রাজ্যে ৩০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন, সেই কট্টর রিপাবলিকান রাজ্য থেকেই অ্যান্ডি দুবার গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।
দুর্বল দিক: কেনটাকির বাইরে দেশজুড়ে তাঁর তেমন পরিচিতি নেই। তা ছাড়া রাজনীতিতে তাঁর সব দলের সঙ্গে মিলেমিশে চলার নীতি ডেমোক্রেটিক দলের কট্টর ভোটারদের মন না–ও গলাতে পারে। জনমত জরিপগুলো বলছে, ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই মনে করেন, তাঁদের দল ট্রাম্প এবং তাঁর নীতির বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তভাবে লড়াই করছে না।
.ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম গত ফেব্রুয়ারিতে নিজের একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। তিনিও সাউথ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ার সফর করেছেন।
ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর রাজনৈতিক তহবিলে বর্তমানে ৪০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জমা রয়েছে। গত অক্টোবরে সিবিএস নিউজ সানডে মর্নিং অনুষ্ঠানে নিউসম বলেছিলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ২০২৮ সালের নির্বাচনে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাববেন।
গত জুনে নিউসম অভিযোগ করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার কথা ভাবছেন বলেই ট্রাম্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচার বিভাগকে দিয়ে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত করাচ্ছেন।
সবল দিক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা ও সরাসরি বিরোধিতার মাধ্যমে নিউসম দেশজুড়ে নিজের একটি জোরালো পরিচিতি তৈরি করতে পেরেছেন।
দুর্বল দিক: পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াতে জ্বালানি তেলের দাম, করের হার এবং গৃহহীন মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নিউসম নির্বাচনে দাঁড়ালে রিপাবলিকানরা নিশ্চিতভাবেই ক্যালিফোর্নিয়ার এসব সমস্যাকে তাঁর ব্যর্থতা হিসেবে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাবে।
ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিৎসকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সফর করেছেন। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। গত এপ্রিলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ২০২৬ সালের গভর্নর নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার প্রচারে মগ্ন। তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘২০২৮ সালের নির্বাচনে আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় থাকব। কারণ, সেই নির্বাচনে আমাদের হারলে চলবে না।’
সবল দিক: যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাশনাল গার্ড ও ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে প্রিৎসকার দেশজুড়ে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বখ্যাত হায়াত হোটেল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হওয়ায় তিনি নিজে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। ফলে নির্বাচনী তহবিলের জন্য তাঁকে দাতাদের ওপর খুব বেশি নির্ভর করতে হবে না।
দুর্বল দিক: তাঁর এই বিপুল সম্পত্তিই আবার বিরোধীদের জন্য বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার সঙ্গে তিনি সামঞ্জস্যপূর্ণ নন—এমন ধুয়া তুলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁকে আক্রমণ করতে পারেন।
.পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো চলতি বছর নিজের একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। আগামী নভেম্বরের গভর্নর নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ের জন্য বর্তমানে তাঁর তহবিলে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার নগদ জমা রয়েছে।
.প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে গত এপ্রিলে জানতে চাওয়া হলে শাপিরো বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের মধ্যে বড় আলোচনার প্রয়োজন হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি অবশ্যই সেই আলোচনার অংশ হব।’
সবল দিক: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পেনসিলভানিয়া রাজ্যে জিতেছিলেন, সেই গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারণী দোদুল্যমান রাজ্যের জনপ্রিয় গভর্নর শাপিরো।
দুর্বল দিক: শাপিরো একজন ইহুদি এবং ডেমোক্রেটিক দলের ভেতর তাঁকে ইসরায়েলপন্থী নেতা হিসেবে দেখা হয়। গাজা ও ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী ক্ষোভ বাড়ছে, যা শাপিরোর জন্য বড় বাধা হতে পারে। যদিও তিনি নিজে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
.সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই তালিকায় মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর এবং মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারের নামও আলোচনায় রয়েছে। যদিও ওয়েস মুর জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে লড়বেন না। অন্যদিকে গত মে মাসে গ্রেচেন হুইটমারও প্রথমে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে পরক্ষণেই নিজের মন্তব্য শুধরে নিয়ে চতুরতার সঙ্গে বলেন, রাজনীতিতে কখনোই ‘কখনো নয়’ বলতে নেই।
.অতীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডেমোক্রেটিক দলের দুই শীর্ষ নেতা ইতিমধ্যেই ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউসের দৌড়ের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন অথবা আবারও নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন।
.২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়া পিট বুটিগেগ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিতে বর্তমানে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জমা রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি শুরুর দিকের মনোনয়ন লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ার সফর করেছেন।
সবল দিক: বুটিগেগকে একজন চৌকস তার্কিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি কট্টর রক্ষণশীল ফক্স নিউজ চ্যানেলে গিয়ে সরাসরি রিপাবলিকানদের আঙিনায় দাঁড়িয়ে তাদের কড়া সমালোচনা করতেও তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেন না।
দুর্বল দিক: ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্রেটিক দলের সবচেয়ে বড় ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয় করতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিলেন। এ ছাড়া বড় কোনো প্রশাসনিক পদ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। মন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর সাউথ বেন্ডের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
.২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসই আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর বিষয়ে সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন। গত এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আবারও লড়তে পারি। হ্যাঁ, আমি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছি।’
.সবল দিক: সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় দেশজুড়ে কমলা হ্যারিসের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের শুরুর দিকের প্রাথমিক জনমত জরিপগুলোতেও ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে তিনি বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
দুর্বল দিক: কমলা হ্যারিস যদি ২০২৮ সালে আবারও নির্বাচনে দাঁড়ান, তবে এটি হবে হোয়াইট হাউসের জন্য তাঁর তৃতীয় চেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণত যেসব প্রার্থী আগে নির্বাচন করে হেরে গেছেন, প্রাথমিক বাছাইয়ের ভোটাররা তাঁদের সহজে মেনে নিতে চান না।
এ ছাড়া জো বাইডেনের সঙ্গে কমলার অতি ঘনিষ্ঠতাও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ, ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাইডেন অনেক দেরিতে সরে দাঁড়ানোর কারণেই দলটির জয়ের সম্ভাবনা মাটি হয়ে গিয়েছিল।
.ডেমোক্রেটিক দলের বেশ কয়েকজন সিনেটরকে নিয়ে ২০২৮ সালের নির্বাচনের গুঞ্জন চলছে। তবে তাঁদের মধ্যে অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলিকে নিয়েই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও বিশ্লেষণ হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই তালিকায় আরও রয়েছেন অ্যারিজোনার রুবেন গালেগো, কানেকটিকাটের ক্রিস মারফি, জর্জিয়ার জন অসফ এবং নিউজার্সির কোরি বুকার।
.আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের উত্তরসূরি কে, ভ্যান্স নাকি রুবিও.নাসার সাবেক নভোচারী ও মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত পাইলট মার্ক কেলির পকেটে এই মুহূর্তে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তহবিল রয়েছে। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রধান সংসদীয় কমিটির তহবিলে ২ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি নগদ অর্থ জমা রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি সাউথ ক্যারোলাইনা, নেভাডা ও আইওয়া সফর করেছেন এবং ২০২৮ সালের নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
সবল দিক: তিনি অ্যারিজোনার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান রাজ্য থেকে নির্বাচনে জিতে সিনেটর হয়েছেন। এ ছাড়া ২০১১ সালে তাঁর স্ত্রী ও সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য গ্যাবি গিফোর্ডস একটি প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা থেকে বেঁচে ফেরেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত ‘গান রিফর্ম’ বা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে মার্কিন সমাজে কেলির একধরনের বাড়তি গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে।
দুর্বল দিক: ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইপর্বে সাধারণত কট্টর ও প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকে। কেলি রাজনৈতিকভাবে কিছুটা মধ্যপন্থী হওয়ায় সেই সব ভোটারের ভোট পাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে।
আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ
নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত এই মার্কিন কংগ্রেস সদস্য নিজেকে একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ প্রগতিশীল মুখ। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাঁর দুটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের মাধ্যমে যে প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, ওকাসিও-কোর্তেজকে সেই আন্দোলনের সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত মে মাসে এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ওকাসিও নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তিনি বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য হলো এই দেশটাকে বদলে দেওয়া।’
সবল দিক: রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘এওসি’ নামে পরিচিত এই নেত্রী ডেমোক্রেটিক দলের তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়। যেকোনো জনসভায় তাঁর উপস্থিতি মানেই সেখানে উপচে পড়া উৎসাহী জনতার ভিড়।
দুর্বল দিক: রিপাবলিকানরা প্রায়ই তাঁকে ডেমোক্রেটিক দলের কট্টর বামপন্থী বা উগ্র অংশটির প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরে আক্রমণ করেন। ধনীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কর আরোপ এবং সরকারের অর্থায়নে সব সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালানোর পক্ষে তাঁর অনড় অবস্থানকে বিরোধীরা তাঁর প্রধান ব্যর্থতা হিসেবে প্রচার করেন।
এই প্রগতিশীল শিবিরের বাইরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত আরেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্নার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। গত মার্চ মাসে তিনি জানান, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
রাম ইমানুয়েল
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাম ইমানুয়েল ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ছিলেন। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ এবং ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিকাগো শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাপানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন ইমানুয়েল। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার আভাস দেন। এর পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার দাবি করে আসছেন, ডেমোক্রেটিক দলের ভেতর মধ্যপন্থী অংশটিকে নতুন করে শক্তিশালী করা দরকার। তবে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের প্রাথমিক জনমত জরিপগুলোতে বর্তমানে তাঁর পক্ষে মাত্র ১ শতাংশের মতো সমর্থন রয়েছে।
.যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা তাহলে কি ভ্যান্সকে চান.যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাস বলে—শুরুর দিকের জনমত জরিপ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আগাম ধারণা অনেক সময়ই ভুল প্রমাণিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ২০১৬ সালের নির্বাচনের জন্য প্রথম প্রচার শুরু করেছিলেন, তখন রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনসমর্থন ছিল মাত্র ১ শতাংশ।
একইভাবে ১৯৯২ সালের ডেমোক্রেটিক দলের শুরুর দিকের জরিপগুলোতে বিল ক্লিনটনের জনপ্রিয়তাও ছিল ১ শতাংশের নিচে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই দুজনেই প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তাই ১ শতাংশ সমর্থন থাকা রাম ইমানুয়েল কিংবা অন্য কোনো অচেনা মুখও শেষ মুহূর্তে চমক হিসেবে মূল লড়াইয়ে চলে আসতে পারেন।






