চটকদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে চরম বিপদে পড়েছেন চীনের শানজি প্রদেশের বাওজি শহরের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। একটি দাঁতের ব্যথার চিকিৎসার কথা বলে তাঁর মুখে থাকা অবশিষ্ট ১২টি দাঁত উপড়ে ফেলে প্রতারণা করেছে একটি ডেন্টাল ক্লিনিক।
ভুক্তভোগী লি বেশ কিছুদিন ধরে একটি দাঁতের ব্যথায় ভুগছিলেন। সেই সময়ে একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের বিজ্ঞাপনে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘সকালে দাঁত লাগান, দুপুরে মাংস খান’, ‘সব দাঁত ঠিক রাখুন, ১০০ বছর বাঁচুন’। বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে তিনি ক্লিনিকে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিনামূল্যে দাঁত পরীক্ষার লোভ দেখায় এবং বাড়ি থেকে ক্লিনিকে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি পাঠায়।
ক্লিনিকে পৌঁছানোর পর লি-কে ভুল বুঝিয়ে তাঁর মুখে থাকা অবশিষ্ট ১২টি দাঁত একে একে উপড়ে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে ১০টি কৃত্রিম দাঁত বসানো হয়।
উল্লেখ্য, লি হৃদ্রোগে আক্রান্ত এবং তাঁর হার্টে চারটি স্টেন্ট বসানো রয়েছে। এছাড়া তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের শারীরিক জটিলতা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে এতগুলো দাঁত তোলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন লি। দাঁত উপড়ানো ও কৃত্রিম দাঁত বসানোর খরচ হিসেবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে ১৮ হাজার ৮০০ ইউয়ান (প্রায় ২ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার) সরিয়ে নেয়। এছাড়া তাঁর নামে আরও ৬ হাজার ২০০ ইউয়ান বকেয়া বিল ধরা হয়।
লির পরিবারের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যুরো ওই ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং লির অর্থ ফেরতের নির্দেশ প্রদান করেছে।






