কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বানের পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে দুই শিশু। গতকাল শনিবার পৃথক দুটি ঘটনায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ হওয়া শিশুটি চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জলদাসপাড়ার তুফান দাসের ছেলে সুজিত দাস (১২)। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকার ১৯ মাস বয়সী শিশু মুশফিকুর রহিম স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা গেছে। সে প্রবাসী নাছির উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ার জলদাসপাড়ার বুক চিরে একটি গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। সড়কের একপাশে মাছের ঘের এবং অন্যপাশে লোকালয়। বন্যার পানি এই সড়কের ওপর দিয়ে মাছের ঘের হয়ে মাতামুহুরী নদীতে পড়ছে। সুজিতসহ তিনজন যখন সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিল, তখন হঠাৎ স্রোতে ভেসে গিয়ে মাছের ঘেরে পড়ে যায় সে। এরপর থেকেই সুজিত নিখোঁজ।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চকরিয়া সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "স্রোত বেশি থাকায় এবং ডুবুরি দলের কেউ না থাকায় তাঁরা উদ্ধারকাজ চালাতে পারেননি। চট্টগ্রামের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।"
এদিকে পেকুয়া উপজেলার বলিরপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় জানা যায়, শিশু মুশফিকুরকে বসতঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন তার মা। বসতঘরে হাঁটুসমান এবং উঠানে কোমরপানি ছিল। লোকালয় থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে শিশুটি কখন ভেসে যায়, তা মা বুঝতে পারেননি। গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে দোকান থেকে ফেরার পথে শিশুটির চাচা লেদু মিয়া তাকে ভেসে থাকতে দেখেন এবং লাশ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।






