চট্টগ্রামে আবারও শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। বৃষ্টির তীব্রতার কারণে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে নগরের ইস্পাহানি সি-গেট এলাকায় দেখা যায়, সড়কে প্রায় হাঁটুপানি জমেছে। এই পানি মাড়িয়েই চলাচল করছে যানবাহন। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বৃষ্টির কারণে কর্মস্থলগামী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন; তাঁদের ছাতা ও রেইনকোট পরে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহন পাওয়া গেলেও চালকেরা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, "রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত এর আগের ১২ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার। বৃষ্টি আরও দুই থেকে তিন দিন হতে পারে।"

উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে বৃষ্টি চলছে। গত মঙ্গলবার জুলাই মাসে ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল। এর প্রভাবে আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। গত দুই দিন বৃষ্টি কমায় পানি নেমে গেলেও বর্তমান বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।