রাজধানীর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে গতকাল শুক্রবার অ্যাসেট (অ্যাকসিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন) প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ (ইবিটি) কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মো. দাউদ মিয়া। তিনি বলেন, "কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রশিক্ষণার্থীরা যেন প্রশিক্ষণ শেষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মবাজারে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও ফলাফলভিত্তিক ও শিল্পবান্ধব করতে হবে।"
সচিব মো. দাউদ মিয়া প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, জবাবদিহিতা, নিয়মিত উপস্থিতি, বাস্তব দক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের ফলাফলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শামসুর রহমান খান এবং অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অ্যাসেট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাত। এছাড়া বিসিএস-এর কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান ইবিটি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, অর্জিত সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, এন্টারপ্রাইজ-ভিত্তিক ট্রেনিং (ইবিটি) হলো অ্যাসেট প্রকল্পের একটি কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণপদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণার্থীদের কেবল শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব কর্মপরিবেশে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে তারা আধুনিক যন্ত্রপাতি, কর্মপ্রবাহ, কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা, গ্রাহকসেবা এবং বাজারের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আওতায় ৬২টি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মোট ২৮৩টি অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ব্যাচের মধ্যে ১০৭টি এডিটিপি এবং ১৭৬টি টিএসটিপি ব্যাচ রয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে অনুমোদিত এই ২৮৩টি ব্যাচের মধ্যে ২৭৩টি সক্রিয় এবং ১০টি নিষ্ক্রিয় বা বাতিল হয়েছে।
চতুর্থ পর্যায়ে এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৫৫২ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৭৯২ জন, নারী ১ হাজার ৭৬০ জন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ২৩ জন এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণার্থী ২০ জন। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির অধীনে মোট প্রশিক্ষণার্থীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭৯২ জন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, অ্যাসেট প্রকল্প, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডার (আইএসটিপি), স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডার (এসটিপি) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।






