প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
আজ শুক্রবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে জামায়াত আমির দুর্গত মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’
জনগণের সেবায় রাজনীতির গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের দুর্দিনে রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো জনগণের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো এবারও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকবে, ইনশা আল্লাহ।’
এর আগে সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা এই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াব। বিশেষ করে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে আমরা পৌঁছাব। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দলের সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে আমরা পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করছি।’
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বর্তমানে হাঁটুপানি বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা গেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে পানি কমতে শুরু করলেও বাঁশখালীর আটটি ইউনিয়নে এখনো মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
পরিদর্শনকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহাজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম মহানগরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সফরকালে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকাও পরিদর্শন করেন এবং দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।






