মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচন এবং অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই লক্ষ্যে নাসাসহ বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো মঙ্গল গ্রহ ও অন্যান্য দূরবর্তী গ্রহগুলোতে উচ্চাভিলাষী অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। এসব অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো মহাকাশ থেকে মূল্যবান পাথর, মাটি ও বরফের নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসা। তবে এই প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নাসার ভবিষ্যৎ চন্দ্রঘাঁটিতে একটি বিশেষ জৈবনিরাপত্তা গবেষণাগার তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন স্ট্র্যাটেজিক থ্রেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের পরিচালক ফ্রেডেরিক আই মক্সলে এবং ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যান্থনি রিকিয়ার্ডি। তাঁদের মতে, সংগৃহীত নমুনাগুলো পৃথিবীতে আনার আগে সেখানে নিরাপদে পরীক্ষা করলে যেকোনো সম্ভাব্য জৈব ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অ্যাম্বিও সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মহাকাশের নমুনা সরাসরি পৃথিবীতে না এনে প্রথমে চাঁদে অবস্থিত জৈবনিরাপত্তা কেন্দ্রে পরীক্ষা করা সবচেয়ে নিরাপদ। এই ব্যবস্থা বিজ্ঞানীদের যেকোনো অজানা জৈব উপাদান বিশ্লেষণের সুযোগ দেবে এবং একই সঙ্গে পৃথিবীর জীবমণ্ডলের দূষণের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করবে। প্রস্তাবিত এই গবেষণাগারটি মূলত একটি উন্নত কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যা বিশেষ কনটেনমেন্ট সিস্টেম, রোবোটিক হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত থাকবে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে নমুনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার পরেই পৃথিবীতে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হবে।

গবেষণার তথ্যানুসারে, ভবিষ্যৎ অনেক মিশনের লক্ষ্য এমন পরিবেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা, যেখানে একসময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল অথবা বর্তমানেও অণুজীব বেঁচে থাকার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। এসব অঞ্চলের নমুনায় যদি কোনো অপরিচিত অণুজীব বা জৈবিকভাবে সক্রিয় উপাদান পাওয়া যায়, তবে তা সরাসরি পৃথিবীর গবেষণাগারে আনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে মহাকাশযানগুলোর মাধ্যমে নমুনাগুলো চাঁদের সুরক্ষিত গবেষণাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে কঠোর সুরক্ষার মধ্যে বিশ্লেষণ করার কথা বলা হয়েছে। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে ভিনগ্রহে প্রাণ থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যৎ মিশনগুলো কোনো বিপজ্জনক জীব বহন করে আনবে এমন সম্ভাবনাও তাঁরা দেখছেন না।

গবেষকদের মতে, পৃথিবীর কাছাকাছি হওয়ায় চাঁদে অবস্থিত জৈবনিরাপত্তা গবেষণাগারে নিয়মিত কর্মী ও সরঞ্জাম পাঠানো সহজ হবে। এছাড়া সেখানে দুর্ঘটনাবশত কোনো অজানা জৈব উপাদানের নিঃসরণ ঘটলেও পৃথিবী নিরাপদ থাকবে। সুরক্ষার এই অতিরিক্ত স্তরটি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দূষণের প্রভাব কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।