বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তাঁর মতে, দেশে এখন স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে, যা ইতালীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগের এক উপযুক্ত সময়।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ইতালির টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এক ব্যবসায়িক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এই কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ইতালির ১১টি এবং বাংলাদেশের ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, "বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে পণ্যের বৈচিত্র্য ও গুণগত মান বাড়াতে ইতালীয় কোম্পানিগুলো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, চট্টগ্রামে বর্তমানে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বেশ কিছু বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তিনি বলেন, "এসব প্রকল্প চালু হলে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।"
এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইতালীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, ইতালির অনারারি কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, "বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে ইতালীয় যন্ত্রপাতির চাহিদা রয়েছে। এ ধরনের ব্যবসায়িক বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বাড়বে।"
কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সির প্রতিনিধি আন্তোনিয়েত্তা বাক্কানারি ও সিনজিয়া ক্যাম্পানিলে, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন।






