পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ার একই দিনে কেনাবেচার সুযোগ দিতে শিগগিরই 'ডে নেটিং' সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট কিছু ভালো কোম্পানির শেয়ার একই দিনে ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারবেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ারবাজারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম বা সিএমজেএফ টকে অংশ নিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, "সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ডে নেটিং সুবিধা চালুর প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সব শেয়ারে এ ধরনের সুবিধা চালুর বাস্তবতা নেই। তাই আমরা আপাতত ভালো মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছি। শুরুতে সেটি হতে পারে ভালো মানের ৩০ কোম্পানির ক্ষেত্রে।"

লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি। বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, "সার্বিকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে দুদিনের মধ্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে কাজ চলছে। এই সুবিধা চালু হলে বিনিয়োগকারীরা যেদিন শেয়ার কিনবেন, তার পরদিন বিক্রির সুযোগ পাবেন।"

পাশাপাশি বাজারে ভালো ও নতুন কোম্পানি আনতে দ্রুত সরাসরি তালিকাভুক্তির সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এই প্রক্রিয়াটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগ্রহী কোম্পানিগুলো আবেদনের সুযোগ পাবে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হবে।

বাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান মাসুদ খান। তিনি জানান, শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চ আদালতে আলাদা বেঞ্চ করার উদ্যোগ নেবে বিএসইসি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমরা কারসাজির ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। তাই শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চ আদালতে বেঞ্চ করার উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে।”

কারসাজি রোধে এক বছরের মধ্যে এআই-নির্ভর সার্ভেইল্যান্স বা তদারকি ব্যবস্থা চালু করার কথা জানান চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে ইতিমধ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় দেওয়ানি মামলার পরিবর্তে ফৌজদারি মামলা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিএসইসি।

সিএমজেএফ টকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মনির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।