পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা মিছিলে ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিজেপির নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্ট বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, মিছিলটি রাস্তার এক পাশ দিয়ে পরিচালিত হবে এবং এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি হতে পারবে না। সেই নির্দেশনা মেনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তৃণমূলের মিছিল শুরুর আগেই বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথের বিভিন্ন স্থানে ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেন বিজেপি সমর্থকরা। মাইকে ধর্মীয় গান ও জয়ধ্বনি বাজানোর পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন তারা। মিছিলটি এগোতে শুরু করলে বিজেপির বাধার মুখে পড়ে এবং একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির পরিকল্পিত হামলায় তাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিলে সরাসরি অংশ না নিলেও কর্মসূচির শুরুতে উপস্থিত হয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সংঘর্ষ চলাকালে কালীঘাট এলাকার বর্তমান বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুসারীদের বাধার মুখে তৃণমূল কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এই রাজ্যে এখন আর কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই। পুলিশ এখন পুরোপুরি দলদাসে পরিণত হয়েছে।’
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলকে বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই রাজ্যে কোনো অপরাধীই এখন আর অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।’
এদিকে বারুইপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের গুলিতে প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল নিহত হওয়ার পর বুধবার ‘কবীর মোল্লা’ নামের আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সন্দেহে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এছাড়া ওই ঘটনার পর বারুইপুরে ভাঙচুর, ট্রেন ও সড়কপথ অবরোধ এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে আরও ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।






