ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলায় মিসরীয় ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি নিহত হয়েছেন। তিনি সেখানে বড় পর্দায় মিসর-আর্জেন্টিনা ফুটবল ম্যাচ দেখানোর দায়িত্বে ছিলেন।
প্যালেস্টাইন ইনফরমেশন সেন্টার ও আরবি পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। এতে ওয়াহিদির পাশাপাশি এক শিশুসহ আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
মিসর ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার একটি বিশ্বকাপ ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই হামলাটি ঘটে। ওয়াহিদির নেতৃত্বাধীন কমিটি গাজা শহরে সাধারণ মানুষের জন্য বড় পর্দায় ম্যাচটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা করেছিল।
মিসরীয় ত্রাণ কমিটির একজন মুখপাত্র জানান, ওয়াহিদি ত্রাণ কমিটির গাজা সিটি সদর দপ্তরে প্রবীণদের একটি সংস্থার কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাবরা এলাকায় প্রশাসনিক ভবনের কাছে তাঁর গাড়িতে হামলার ঠিক আগে তিনি একটি বিরোধ মীমাংসা বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
ওয়াহিদিকে সমাজের একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে কমিটির মুখপাত্র বলেন, ‘যেকোনো বিরোধ মেটানো এবং মানুষের সেবা করার জন্য তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে তিনি সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।’
মঙ্গলবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত সাতে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ২০ জন। নাসের হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, গাজার খান ইউনিস এবং উত্তর গাজায় পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রতিষ্ঠিত এই ত্রাণ কমিটি গাজায় খাদ্য বিতরণ, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ক্যাম্প পরিচালনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয় করে। এছাড়া গাজাজুড়ে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ প্রদর্শনের আয়োজনের জন্যও এই কমিটি পরিচিত।
কায়রোতে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। হারেৎজ জানিয়েছে, কায়রো এই হামলার বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে জবাব চেয়েছে।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় বারবার হামলা চালিয়েছে। ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত আট মাসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন।






