পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’ (বন্দুকযুদ্ধ) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে বারুইপুর থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই মামলায় আনন্দ সরদার ও দিবাকর সরদার নামে আরও দুই অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার বারুইপুর থেকে ওই শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনন্দ ও দিবাকরকে আটক করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাসকে দিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করিয়েছিলেন আনন্দ সরদার। তবে আনন্দ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি ঘটনায় জড়িত নন এবং “প্রভাস মণ্ডলই মূল অপরাধী।” যদিও পুলিশি তদন্তে প্রভাসকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে গতকাল দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে প্রভাসকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় বারুইপুর থানার পুলিশ। সেখানে ‘অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণ’ করার সময় প্রভাস আচমকা পুলিশের একটি বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর জখম হন। তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারকালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্যে কোনো ধর্ষণ, সন্ত্রাস বা খুন বরদাশত করা হবে না। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে ধর্ষণকারীদের “সকালে জমা নিয়ে বিকেলে খরচ” করা হবে। গতকাল রাতের এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাকে অনেকে মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, অতীতে ঘটে যাওয়া আরজি কর কিংবা কামদুনির মতো নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের যদি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতো, তবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হতো এবং মানুষ নির্ভয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারত।






