এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক—তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)। এই বিষয়ে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রকাশ কুমার দাস।

সৃজনশীল অংশের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত যত্নসহকারে লিখতে হবে, কারণ পরীক্ষকরা এই অংশগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেন। জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর একটি শব্দ বা বাক্যে লিখলেও পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখা শ্রেয়। অনুধাবনমূলক প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রথমে এক বাক্যে জ্ঞানমূলক অংশ লিখে পরবর্তী চার-পাঁচ লাইনের একটি প্যারায় প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রয়োগমূলক অংশে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে উদ্দীপকের সমন্বয় ঘটানো জরুরি। অন্যদিকে, উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নের ক্ষেত্রে জ্ঞান, অনুধাবন ও প্রয়োগের প্রয়োজনীয় অংশ লেখার পর একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে।

শিক্ষক সতর্ক করে জানান, উদ্দীপকের বিষয়বস্তু নির্বাচনে ভুল করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, উদ্দীপকটি বায়োমেট্রিক সম্পর্কিত হলে ভুলবশত ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে লেখা যাবে না।

আইসিটি বিষয়টিকে সহজভাবে দেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টি প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর পুরোটি পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন প্রশ্নের উত্তর আগে লেখা হবে এবং জটিল প্রশ্নগুলো ভালোভাবে বুঝে সমাধান করতে হবে। এছাড়া পূর্ণ নম্বর পাওয়ার জন্য বহুনির্বাচনি অংশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনি কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথম অধ্যায় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে; এখানে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি, এআই, রোবোটিকস, বায়োমেট্রিক, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ন্যানোটেকনোলজি গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে দুটি সৃজনশীল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা আছে। এখানে কমিউনিকেশন সিস্টেমস, ট্রান্সমিশন মোড, মিডিয়া, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস ও টপোলজির প্রকারভেদ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। বিশেষ করে টপোলজির উত্তর দেওয়ার সময় সংজ্ঞা, চিত্র এবং সুবিধা-অসুবিধা পয়েন্ট আকারে লিখতে হবে।

তৃতীয় অধ্যায় থেকেও দুটি সৃজনশীল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর, পরিপূরকের যোগ-বিয়োগ, বুলিয়ান উপপাদ্য ও লজিক গেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাফ অ্যাডার ও ফুল অ্যাডারের সার্কিট ডায়াগ্রাম এবং সত্যক সারণি নির্ভুলভাবে অঙ্কন করার পাশাপাশি ন্যানো গেটের সমীকরণ বাস্তবায়ন অনুশীলন করতে হবে।

চতুর্থ অধ্যায় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা আছে। এখানে এইচটিএমএল ট্যাগ, আট্রিবিউট, হেডিং, হাইপারলিংক ও ইমেজের পাশাপাশি লিস্ট ও টেবিলকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া ডোমেইন নেম, হোস্টিং ও ওয়েবসাইট পাবলিশিং সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন।

পঞ্চম অধ্যায় থেকে দুটি সৃজনশীল প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে প্রোগ্রামিং ভাষার প্রজন্ম, অনুবাদক প্রোগ্রাম, অ্যালগরিদম ও ফ্লোচার্ট মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। সি প্রোগ্রামিং ভাষায় কোড লেখার সময় সিনট্যাক্স অনুসরণ করা, সেমিকোলন ও কমার সঠিক ব্যবহার এবং ইংরেজি ছোট-বড় হাতের অক্ষরের সঠিক মিশ্রণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল, বড় সংখ্যা নির্ণয়, ধারার যোগফল এবং বিভিন্ন লুপ (ফর, ডু, হোয়াইল) ব্যবহার করে প্রোগ্রাম লেখার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে।

সবশেষে ষষ্ঠ অধ্যায়ের ডাটাবেজ থেকে প্রশ্ন আসবে, যেখানে প্রদত্ত টেবিল থেকে তথ্য নিয়ে সমাধান করতে হবে।