পরিবেশ দূষণ রোধ এবং টেকসই প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিল ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস। গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন কারখানা 'ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক' চালু করেছে। মঙ্গলবার টঙ্গীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কারখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তামারা হাসান আবেদ বলেন, "ব্যবসা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যম নয়; বরং ইতিবাচক সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনেরও শক্তিশালী চালিকা শক্তি। ব্র্যাক গ্রিনপ্যাকের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল প্যাকেজিং প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেই সঙ্গে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ব্র্যাক গ্রিনপ্যাক শুধু উৎপাদন কারখানা নয়; এটি উদ্ভাবন, দায়িত্বশীল ব্যবসা ও পরিবেশের প্রতি ব্র্যাকের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।"
তামারা আবেদ আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে কারখানাটিতে প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ মেট্রিক টন পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং তৈরি হচ্ছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে বছরে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা প্রতিবছর সমপরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।
বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, প্রতিবছর বিশ্বে ৪০ কোটি মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় প্যাকেজিং খাতে। প্রচলিত প্লাস্টিক পচতে ২০০ থেকে ৫০০ বছর সময় লাগলেও ব্র্যাক গ্রিনপ্যাকের উৎপাদিত পচনশীল পণ্য মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে এটি প্লাস্টিকের একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সাব্বির আহমেদ, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






