টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের রেললাইন। পানির নিচে রেলপথ ও হাঁটার পথ একাকার হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আজ বুধবার সকালে রেলওয়ের একটি গ্যাংকারে চড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আজ বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে গ্যাংকার নিয়ে ঘটনাস্থলে যান রেল প্রতিমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন এবং রেলওয়ে ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের ষোলোশহর থেকে জানালিহাট সেকশনের প্রায় চার কিলোমিটার রেলপথ পানির নিচে। বিশেষ করে সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত এলাকাটি পুরোপুরি জলমগ্ন। রেললাইনের পাশের খালের পানি উপচে বসতবাড়ির আঙিনা ও সড়ক একাকার হয়ে গেছে। শমসেরপাড়া এলাকায় রেলপথে হাঁটুর ওপর পানি জমে থাকায় আলাদা করে লাইন চেনার উপায় ছিল না।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, তাঁদের সরকারের ভবিষ্যৎ চিন্তা হচ্ছে এই লাইনটি আরও ৫ ফুট উঁচু করবেন। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইনে কাজ হবে। ইতিমধ্যে দরপত্রপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলপথ যখন উঁচু করা হবে তখন ৩ ফুট পানি বাড়লেও রেল চলাচল কোনো সমস্যা হবে না।
চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুদিন যাবৎ যে বৃষ্টি হচ্ছে তা রেকর্ডসংখ্যক। অনেকে বলছেন গত ৪৫ বছরেও এত বৃষ্টি চট্টগ্রামে হয়নি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে রেললাইন উঁচু করা, যাতে ভারী বৃষ্টি হলেও রেল চলাচল বিঘ্নিত না হয়।
রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘৪৫ বছর আগে এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি বৃষ্টিতে রেললাইন কী পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঁচু করা, যাতে ডুবে না যায়।’
নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের জন্য রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে চাই। কিন্তু বৃষ্টিতে লাইনে যে পরিমাণ পানি জমেছে তাতে রেল চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এই বিরূপ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ বন্ধ রেখেছি। যারা টিকিট কেটে যেতে পারছেন না, তাঁদের টিকিটের অর্থ আমরা ফেরত দিয়ে দিব।’
উল্লেখ্য, রেলপথ ডুবে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই পথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন যাতায়াত করে। পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।






