সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহ থেকে করাচি যাওয়ার পথে কে২ এয়ারওয়েজের মালবাহী বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজটি নিখোঁজ হয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের ওপর রাডার থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।
পাইলটের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য জানানো হয়েছে, পাকিস্তানি আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজটি করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফ্লাইট চলাকালে পাইলট একটি নেভিগেশন (পথনির্দেশক) সমস্যার কথা জানিয়ে এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের কাছে (এসিসি) সহায়তা চান।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, উড়োজাহাজে পাঁচজন ক্রু ছিলেন। কে২ এয়ারওয়েজের করাচিভিত্তিক বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থাটি সরকার থেকে এয়ারলাইন চার্টার লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৮ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পিএএ’র তথ্য অনুযায়ী, শারজাহ থেকে করাচিগামী কে২ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ পাকিস্তান কার্গো ফ্লাইটটি রাত ৯টা ১৮ মিনিটে নেভিগেশনাল সিস্টেমে সমস্যার কথা জানায়। এরপরই করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার (এসিসি) তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেয়।
তবে রাত ৯টা ২১ মিনিটে রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি ‘খুব দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে’ এবং হঠাৎ করে তার দিক পরিবর্তন করছে। এরপর করাচি থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ‘রাডার যোগাযোগ ও সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সেবা সংস্থা ‘ফ্লাইটরাডার’ বলেছে, প্রাথমিক এডিএস-বি ডেটা থেকে দেখা গেছে উড়োজাহাজটি প্রথমে উচ্চতা হারায়, পরে আবার কিছুটা ওপরে ওঠে এবং তারপর আবার হঠাৎ করে নাটকীয়ভাবে নিচে নামে। সংস্থাটি আরও জানায়, উড়োজাহাজ থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ১০০ ফুট ওপরে ছিল এবং এর ‘ভার্টিকাল রেট (নিচে নামার গতি) ছিল প্রতি মিনিটে মাইনাস ২২ হাজার ৪০০ ফুট’।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য মতে, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ওই অঞ্চলের অন্যান্য উড়োজাহাজের মতো জিএনএসএস ইন্টারফারেন্স বা সিগন্যালবিভ্রাটের মুখে পড়ে। ফলে শারজাহর কাছাকাছি এলাকায় নেভিগেশন ডেটা (পথনির্দেশক তথ্য) দুর্বল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি জিএনএসএস সিগন্যালবিভ্রাট থেকে বের হওয়ার পর ফ্লাইটরাডার২৪ আবারও এর এডিএস-বি তথ্য পেতে শুরু করে।
এ ঘটনার পর উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রকে সক্রিয় করা হয়েছে। নিখোঁজ উড়োজাহাজটির খোঁজে বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণে সমুদ্রে একটি সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। ব্যুরো অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেশন এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে।
ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, এপি-বিওআই নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি হচ্ছে বোয়িং ৭৩৭-৪এম০ (বিডিএসএফ), যা ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছিল। উড়োজাহাজটি মূলত ১৯৯৯ সালে একটি যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে অ্যারোফ্লট-এ যুক্ত হয়েছিল; এরপর ২০০৪ সালে গারুডা ইন্দোনেশিয়াযর বহরে যুক্ত হয়। এটিকে ২০১২ সালে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।






